ময়মনসিংহ নগরীতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আর রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া বাসটার্মিনালে পার্কিং করা একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার মধ্যরাতে বাস দুটিতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দা বাসটার্মিনালের সামনের সড়কে ‘সৌখিন পরিবহন’–এর একটি বাস দাঁড় করিয়ে রেখে চালক ও হেলপার বাসায় চলে যান। দিবাগত রাত ১২টার দিকে বাসটিতে আগুন দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন।ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানিয়েছে, দুটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তদের একটি দল বাসটিতে আগুন দেয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মাসকান্দা এলাকা থেকে মো. পিয়াস (২৫) নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার হাফিজুর রহমান বলেন, রাত ১২টা ৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ৮ মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। রাত ১২টা ৪০ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়। তিনি আরও জানান, আগুনে বাসটির সব কটি আসন এবং ইঞ্জিনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বাসের নিচের অংশ ও টায়ারগুলো অক্ষত রয়েছে। আগুনের তাপে বাসের ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারও দুই-তিনটি স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া বাসটার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে বাসটি পুরোপুরি পুড়ে যায়কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনাস্থলে দুটি মোটরসাইকেলে চারজনকে দেখা গেছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।ময়মনসিংহ পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আলমগীর মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ফ্যাসিস্টরা নাশকতা করতে পারে, সে আশঙ্কা থেকে বাস টার্মিনালের ভেতরে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সৌখিন পরিবহনের বাসটি সড়কে দাঁড়িয়ে ছিল, সেটিতে আগুন দেওয়া হয়। আগুন দেওয়ার সময় বাসটির ভেতরে কেউ ছিল না।বাসায় গিয়ে চালক শোনেন বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে গতকাল রাত একটার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া বাসটার্মিনালে পার্কিং করা ‘মা ক্লাসিক্যাল’ পরিবহনের একটি লোকাল বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বাসশ্রমিকদের ধারণা, দুর্বৃত্তরা গানপাউডার জাতীয় কোনো পদার্থ ব্যবহার করে আগুন দিয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে আগুন নেভান।টার্মিনালে থাকা শ্রমিকেরা জানান, রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের আওতাধীন মা ক্লাসিক্যাল পরিবহনের বাস দৌলতদিয়া-কুষ্টিয়া রুটে চলাচল করে। গতকাল রাতে ট্রিপ শেষে দৌলতদিয়া টার্মিনালে বাসটি পার্কিং করে রাখা হয়। রাত একটার দিকে হঠাৎ বাসটির পেছন থেকে আগুন জ্বলতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। তাঁরা দ্রুত গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেন।ওই বাসের চালক উজ্জ্বল মণ্ডল বলেন, কুষ্টিয়া থেকে ট্রিপ মারা শেষে গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বাসটি দৌলতদিয়া টার্মিনালে রাখেন। সহকারীকে সবকিছু দেখে তালা মারার কথা বলে সাড়ে ছয়টার দিকে তিনি রাজবাড়ীর বানিবহর বাড়ি চলে যান। রাত দেড়টার দিকে তাঁর কাছে স্থানীয় লোকজন ফোন করে বাসে আগুন লাগার বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ঘাটে এসে দেখেন বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। বাসের ভেতর কেউ ছিলেন না, এমনকি দরজাও তালাবদ্ধ ছিল।প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বাসচালক বলেন, বাসটির পেছন থেকে স্থানীয় লোকজন হঠাৎ আগুন দেখতে পান। মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে সম্পূর্ণ বাসটি পুড়ে যায়। স্বাভাবিকভাবে আগুন লাগলে এত দ্রুত বাসটি পোড়ার কথা না। তাঁদের ধারণা, দুর্বৃত্তরা গানপাউডার জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করায় দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ বাসটি পুড়ে যায়।গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাত একটার কিছুক্ষণ পরই আমরা খবর পাই। এ সময় বাস থেকে কয়েক গজ দূরে স্থানীয় কাঁচাবাজারের সামনে টহলরত পুলিশ ছিল। দ্রুত তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় অন্য বাসগুলো সরিয়ে ফেলেন। বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমান সময়ে আমাদের জাতীয় অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে নানামুখী পরিবর্তন ও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পক্ষ থেকেই বিভিন্ন যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।
বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। এই খাতের যথাযথ প্রসার ঘটলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও বেশি শক্তিশালী করবে।
সামগ্রিক এই উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে দীর্ঘমেয়ায়ী ও টেকসই করতে হলে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। আশা করা যাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ মানুষ এর প্রকৃত সুফল ভোগ করবে।