নাগরিক খবর
ই-পেপার
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রবিবার
| বর্ষ: ১ | সংখ্যা: ১ | মূল্য: ৫ টাকা | নাগরিক খবর সংস্করণ
একাত্তরের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা, নেতৃত্বের আধুনিকায়নসহ জামায়াতকে যে ৫ পরামর্শ দিয়ে গেছেন ব্যারিস্টার রাজ্জাক
একাত্তরের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা, নেতৃত্বের আধুনিকায়নসহ জামায়াতকে যে ৫ পরামর্শ দিয়ে গেছেন ব্যারিস্টার রাজ্জাক
একাত্তরের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা, নেতৃত্বের আধুনিকায়নসহ জামায়াতকে যে
৫ পরামর্শ দিয়ে গেছেন ব্যারিস্টার রাজ্জাক
অনলাইন ডেস্ক:
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘আপাতত জামায়াতে ইসলামীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত অবস্থায় ঝুলে আছে’—নিজের বইয়ে দলটিকে এভাবে মূল্যায়ন করে গেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। তাঁর মতে, জামায়াত যদি প্রাসঙ্গিক থাকতে চায়, তাহলে দলের আধুনিকায়ন ও সংস্কার করতে হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে হলে জামায়াতকে ১৯৭১ সালে নিজেদের ভূমিকার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া, নেতৃত্বের আধুনিকায়নসহ পাঁচটি পরামর্শ দিয়ে গেছেন জামায়াতের সাবেক এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল। ২০২৫ সালের ৪ মে প্রয়াত হওয়ার আগে ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ নামে একটি বই লিখে গেছেন আবদুর রাজ্জাক। বইটি গত মাসে প্রকাশ করেছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)। বইটির শেষাংশে ‘জামায়াতের সামনে এগোনোর পথ’ নামে একটি অধ্যায়ে দলটির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সার্বিক মূল্যায়ন করেছেন আবদুর রাজ্জাক।আবদুর রাজ্জাক লিখেছেন, ‘১৯৭১ সালের ছায়া এখনো জামায়াতের ওপর গভীরভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতি দলটির তীব্র বিরোধিতা বোঝা জরুরি। কারণ, এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে দলটির প্রতি অনেক মানুষের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষোভের মূল কারণ। বহু নাগরিকের কাছে জামায়াত শুধু একটি বেদনাদায়ক অতীতের স্মারক নয়; বরং এমন একটি দল, যারা স্বাধীনতাসংগ্রামের সময় নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য এখনো পুরোপুরি জবাবদিহি করেনি। মাঝেমধ্যে দলটির পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও এসব উদ্যোগ প্রায়ই সংশয়ের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়। এসব ঐতিহাসিক অভিযোগ ঘিরে জনমনে গভীর অনুভূতি রয়েছে। ফলে প্রকৃত স্বীকৃতি ও আন্তরিক দায় স্বীকার ছাড়া পুনঃসমঝোতার যেকোনো প্রচেষ্টাই ফাঁপা বলে মনে হতে পারে।’অতীতের মুখোমুখি হতে জামায়াতের অনীহা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে দলটির ভুল উপলব্ধির প্রতিফলন বলে বইয়ে মন্তব্য করে আবদুর রাজ্জাক লিখেছেন, ‘আধুনিক রাজনৈতিক আলোচনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জবাবদিহি ও স্বীকৃতির গুরুত্বকে জামায়াত অবমূল্যায়ন করেছে বলে মনে হয়। যে সমাজে ১৯৭১ জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে এখনো গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এই ইতিহাসকে উপেক্ষা করা জনগণের কাছ থেকে দলটিকে আরও বিচ্ছিন্ন করে। তাই জামায়াতের যেকোনো টেকসই রাজনৈতিক পুনরুত্থান শুরু করতে হবে নিজেদের ইতিহাসের সঙ্গে সৎভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে। জামায়াত যদি এই আত্মসমালোচনা ও অতীতের মুখোমুখি হওয়ার প্রক্রিয়া এড়িয়ে যেতে থাকে, তাহলে রাজনৈতিক প্রভাব পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা এমন একটি জনগোষ্ঠীর অবিশ্বাস ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে পারে, যারা একাত্তরের উত্তরাধিকারকে তাদের জাতীয় ইতিহাসের এমন একটি অংশ হিসেবে দেখে, যার সঙ্গে কোনো আপস সম্ভব নয়।’ব্যারিস্টার রাজ্জাকের স্মৃতিকথা: ’৭১ ইস্যুতে ক্ষমা চাওয়া প্রশ্নে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বঅন্তর্ভুক্তিমূলক না হলে ঝুঁকিজামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক অনমনীয়তা দলটির পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় বাধা—বইয়ে এই পর্যবেক্ষণ রেখেছেন আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের দ্রুত আধুনিকায়ন ও পরিবর্তনশীল জনমিতি সত্ত্বেও জামায়াত অতীতে প্রোথিত একটি রক্ষণশীল কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ রয়েছে। এই অনমনীয়তার ফলে জামায়াত ও তরুণ নাগরিকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তরুণেরা এমন নেতৃত্ব ও নীতি প্রত্যাশা করেন, যা ভবিষ্যৎমুখী এবং অতীতের বয়ানের পরিবর্তে বর্তমান সময়ের বাস্তবতাকে মোকাবিলা করে।’জামায়াতের নেতৃত্বকাঠামোর মধ্যেই একটি বড় দুর্বলতা রয়েছে, উল্লেখ করে আবদুর রাজ্জাক লিখেছেন, ‘বয়স্ক ও রক্ষণশীল একটি অভিজাত গোষ্ঠীর প্রাধান্যে পরিচালিত জামায়াত তরুণ সমর্থকদের আকৃষ্ট করা ও ধরে রাখতে হিমশিম খেয়েছে। তরুণদের অনেকেই দলটির নেতাদের নিজেদের আকাঙ্ক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে করেন। সংগঠনের ভেতরে অন্তর্ভুক্তির অভাব এই বিভাজনকে আরও গভীর করেছে। তরুণ কর্মীদের খুব কম ক্ষেত্রেই দলের গতিপথ নির্ধারণে অর্থবহ ভূমিকা রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। তাঁদের ধারণা, তুলনামূলকভাবে বেশি বাস্তববাদী, উদ্ভাবনী ও পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীল বিষয়গুলো দলে প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। জামায়াত যদি নতুন কণ্ঠস্বরের জন্য নিজেদের উন্মুক্ত না করে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক না হয়, তাহলে দ্রুত পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলটি আরও বেশি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।’ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকভাবমূর্তির সংকট গভীরআবদুর রাজ্জাক তাঁর বইয়ে লিখেছেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ার পর জামায়াতের কয়েকজন নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দলটির জন্য রাজনৈতিক ও আবেগগত—উভয় দিক থেকেই বড় আঘাত ছিল। এসব বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক এবং ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও জামায়াত এই অসন্তোষকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে বৃহত্তর জনসমর্থনে রূপ দিতে পারেনি।’দলের ভাবমূর্তির সংকট আরও গভীর বলে উল্লেখ করেছেন আবদুর রাজ্জাক। তিনি লেখেন, ‘জামায়াতকে এখনো কঠোরভাবে রক্ষণশীল এবং আধুনিকতার প্রতি প্রতিরোধী হিসেবে দেখা হয়। এমন ভাবমূর্তি শহুরে ভোটার ও শিক্ষিত শ্রেণির একটি অংশকে দলটি থেকে দূরে রাখে। অর্থনৈতিক সংস্কার, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও যুবনীতির মতো সমসাময়িক ইস্যুতে অর্থবহভাবে সম্পৃক্ত হতে দলটির অক্ষমতা অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় সম্মিলিতভাবে জাতীয় রাজনীতিতে একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠার জামায়াতের সক্ষমতাকে দুর্বল করেছে।’বাইরের চাপ ও কৌশলগত ভুলআবদুর রাজ্জাক লিখেছেন, ‘রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, গণমাধ্যমে প্রান্তিকীকরণ এবং চলমান আইনি চ্যালেঞ্জসহ জামায়াতকে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বাইরের চাপ মোকাবিলা করতে হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় দলটি প্রায়ই নিজেদের নিপীড়নের শিকার হিসেবে উপস্থাপনের বয়ানের ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু এই আত্মরক্ষামূলক অবস্থান জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়। বরং এটি দলটির দুর্বলতা ও জনজীবন থেকে বিচ্ছিন্নতার ধারণাকেই আরও জোরালো করে।’বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করতে হলে জামায়াতকে অভিযোগনির্ভর রাজনীতির বাইরে গিয়ে সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে বলে বইয়ে মন্তব্য করেছেন আবদুর রাজ্জাক। তাঁর মতে, এই পরিবর্তন না এলে বাংলাদেশের গতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক রাজনৈতিক অঙ্গনে দলটি আরও বেশি প্রান্তিক হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।পুরোনো বয়ানে প্রোথিত, সংস্কারে অনাগ্রহী১৯৮৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন আবদুর রাজ্জাক। ২০০৩ সালে তিনি দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হয়েছিলেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকার জন্য ক্ষমা না চাওয়াকে কেন্দ্র করে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পদত্যাগের আগপর্যন্ত তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন।আবদুর রাজ্জাক তাঁর বইয়ে লিখে গেছেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য ইসলামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করলে জামায়াতের স্থবিরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের অনেক সংগঠন নিজেদের আধুনিকায়ন করেছে—তারা নিজেদের আদর্শের সঙ্গে নতুন বাস্তবতার সমন্বয় করেছে, কৌশল পরিবর্তন করেছে এবং শাসনব্যবস্থা, ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যুতে মনোযোগ দিয়েছে। বিপরীতে, জামায়াত পুরোনো বয়ানের মধ্যে প্রোথিত এবং সংস্কারের ব্যাপারে অনাগ্রহী। ফলে দলটি তরুণ বাংলাদেশিদের আকাঙ্ক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।’২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের সময় এই কৌশলগত দূরদর্শিতার অভাব সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে উল্লেখ করে রাজ্জাক লিখেছেন, সরকারের প্রতি ব্যাপক অসন্তোষ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সামনে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করেছিল। জামায়াত শুধু এই গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নেয়নি, বরং বড় ধরনের ত্যাগও স্বীকার করেছে। বিষয়টি অধিকাংশ মহলেই স্বীকৃত। তবে জামায়াত এই সম্পৃক্ততাকে অর্থবহ রাজনৈতিক পুঁজিতে রূপান্তর করতে পারেনি। নীতি ও শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সুস্পষ্ট অবস্থান না থাকায় দলটি ওই সময়ের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি এবং দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।হাতছাড়া হওয়া এ সুযোগ জামায়াতের বৃহত্তর দুর্বলতা সামনে আনে বলে আবদুর রাজ্জাক উল্লেখ করেছেন। তাঁর দৃষ্টিতে সেই দুর্বলতাগুলো হলো—পুরোনো কৌশল, অভ্যন্তরীণ সংহতির অভাব এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আকর্ষণীয় ও সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে না পারা। রাজ্জাক লিখেছেন, ‘জামায়াত যদি প্রাসঙ্গিক থাকতে চায়, তাহলে তাদের আধুনিকায়ন ও সংস্কার করতে হবে এবং নতুন প্রজন্মের প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচির পুনঃসমন্বয় ঘটাতে হবে।’বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লোগো৫ পরামর্শবইয়ের একেবারে শেষাংশে আবদুর রাজ্জাক লিখেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সামনে এখন একটি সন্ধিক্ষণ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দলটির অবস্থান অনস্বীকার্য। তবে দলটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সেই অতীতের মুখোমুখি হতে পারে কি না, যে অতীতকে তারা এখনো এড়িয়ে চলেছে। টিকে থাকতে হলে দলটিকে সাহস, দূরদর্শিতা এবং পরিবর্তনের প্রতি আগ্রহ প্রদর্শন করতে হবে। জামায়াত এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত দলটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত অবস্থায় ঝুলে আছে।বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনে জামায়াতের একটি গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে হলে দলটিকে মৌলিক সংস্কারের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে উল্লেখ করে এর জন্য দলটিকে পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক। পরামর্শগুলো হলো—১. অতীতের মুখোমুখি হওয়া: ১৯৭১ সালে নিজেদের ভূমিকার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং প্রকৃত জবাবদিহির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া।২. নেতৃত্বের আধুনিকায়ন: তরুণ ও সংস্কারপন্থী ব্যক্তিদের নেতৃত্বে নিয়ে আসা, যাঁরা বর্তমান সময়ের ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম।৩. রাজনৈতিক কর্মসূচির বৈচিত্র্য আনা: আদর্শগত অনমনীয়তার বাইরে গিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া।৪. তরুণদের সম্পৃক্ত করা: বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচিত তরুণদের আকৃষ্ট করে, এমন বয়ান ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।৫. আস্থা পুনর্গঠন: নাগরিক সমাজের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং জাতীয় চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে উন্মুক্ত ও গঠনমূলক সংলাপে অংশ নেওয়া।

বর্তমান সময়ে আমাদের জাতীয় অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে নানামুখী পরিবর্তন ও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পক্ষ থেকেই বিভিন্ন যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।

বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। এই খাতের যথাযথ প্রসার ঘটলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও বেশি শক্তিশালী করবে।

সামগ্রিক এই উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে দীর্ঘমেয়ায়ী ও টেকসই করতে হলে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। আশা করা যাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ মানুষ এর প্রকৃত সুফল ভোগ করবে।

নাগরিক খবর
নাগরিক খবর
প্রিন্ট এর তারিখঃ ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:০২ পিএম

একাত্তরের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা, নেতৃত্বের আধুনিকায়নসহ জামায়াতকে যে ৫ পরামর্শ দিয়ে গেছেন ব্যারিস্টার রাজ্জাক

রাজনীতি / আওয়ামী লীগ
অনলাইন ডেস্ক
একাত্তরের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা, নেতৃত্বের আধুনিকায়নসহ জামায়াতকে যে ৫ পরামর্শ দিয়ে গেছেন ব্যারিস্টার রাজ্জাক

‘আপাতত জামায়াতে ইসলামীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত অবস্থায় ঝুলে আছে’—নিজের বইয়ে দলটিকে এভাবে মূল্যায়ন করে গেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। তাঁর মতে, জামায়াত যদি প্রাসঙ্গিক থাকতে চায়, তাহলে দলের আধুনিকায়ন ও সংস্কার করতে হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে হলে জামায়াতকে ১৯৭১ সালে নিজেদের ভূমিকার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া, নেতৃত্বের আধুনিকায়নসহ পাঁচটি পরামর্শ দিয়ে গেছেন জামায়াতের সাবেক এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল। ২০২৫ সালের ৪ মে প্রয়াত হওয়ার আগে ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ নামে একটি বই লিখে গেছেন আবদুর রাজ্জাক। বইটি গত মাসে প্রকাশ করেছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)। বইটির শেষাংশে ‘জামায়াতের সামনে এগোনোর পথ’ নামে একটি অধ্যায়ে দলটির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সার্বিক মূল্যায়ন করেছেন আবদুর রাজ্জাক।আবদুর রাজ্জাক লিখেছেন, ‘১৯৭১ সালের ছায়া এখনো জামায়াতের ওপর গভীরভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতি দলটির তীব্র বিরোধিতা বোঝা জরুরি। কারণ, এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে দলটির প্রতি অনেক মানুষের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষোভের মূল কারণ। বহু নাগরিকের কাছে জামায়াত শুধু একটি বেদনাদায়ক অতীতের স্মারক নয়; বরং এমন একটি দল, যারা স্বাধীনতাসংগ্রামের সময় নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য এখনো পুরোপুরি জবাবদিহি করেনি। মাঝেমধ্যে দলটির পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও এসব উদ্যোগ প্রায়ই সংশয়ের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়। এসব ঐতিহাসিক অভিযোগ ঘিরে জনমনে গভীর অনুভূতি রয়েছে। ফলে প্রকৃত স্বীকৃতি ও আন্তরিক দায় স্বীকার ছাড়া পুনঃসমঝোতার যেকোনো প্রচেষ্টাই ফাঁপা বলে মনে হতে পারে।’অতীতের মুখোমুখি হতে জামায়াতের অনীহা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে দলটির ভুল উপলব্ধির প্রতিফলন বলে বইয়ে মন্তব্য করে আবদুর রাজ্জাক লিখেছেন, ‘আধুনিক রাজনৈতিক আলোচনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জবাবদিহি ও স্বীকৃতির গুরুত্বকে জামায়াত অবমূল্যায়ন করেছে বলে মনে হয়। যে সমাজে ১৯৭১ জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে এখনো গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এই ইতিহাসকে উপেক্ষা করা জনগণের কাছ থেকে দলটিকে আরও বিচ্ছিন্ন করে। তাই জামায়াতের যেকোনো টেকসই রাজনৈতিক পুনরুত্থান শুরু করতে হবে নিজেদের ইতিহাসের সঙ্গে সৎভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে। জামায়াত যদি এই আত্মসমালোচনা ও অতীতের মুখোমুখি হওয়ার প্রক্রিয়া এড়িয়ে যেতে থাকে, তাহলে রাজনৈতিক প্রভাব পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা এমন একটি জনগোষ্ঠীর অবিশ্বাস ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে পারে, যারা একাত্তরের উত্তরাধিকারকে তাদের জাতীয় ইতিহাসের এমন একটি অংশ হিসেবে দেখে, যার সঙ্গে কোনো আপস সম্ভব নয়।’ব্যারিস্টার রাজ্জাকের স্মৃতিকথা: ’৭১ ইস্যুতে ক্ষমা চাওয়া প্রশ্নে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বঅন্তর্ভুক্তিমূলক না হলে ঝুঁকিজামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক অনমনীয়তা দলটির পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় বাধা—বইয়ে এই পর্যবেক্ষণ রেখেছেন আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের দ্রুত আধুনিকায়ন ও পরিবর্তনশীল জনমিতি সত্ত্বেও জামায়াত অতীতে প্রোথিত একটি রক্ষণশীল কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ রয়েছে। এই অনমনীয়তার ফলে জামায়াত ও তরুণ নাগরিকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তরুণেরা এমন নেতৃত্ব ও নীতি প্রত্যাশা করেন, যা ভবিষ্যৎমুখী এবং অতীতের বয়ানের পরিবর্তে বর্তমান সময়ের বাস্তবতাকে মোকাবিলা করে।’জামায়াতের নেতৃত্বকাঠামোর মধ্যেই একটি বড় দুর্বলতা রয়েছে, উল্লেখ করে আবদুর রাজ্জাক লিখেছেন, ‘বয়স্ক ও রক্ষণশীল একটি অভিজাত গোষ্ঠীর প্রাধান্যে পরিচালিত জামায়াত তরুণ সমর্থকদের আকৃষ্ট করা ও ধরে রাখতে হিমশিম খেয়েছে। তরুণদের অনেকেই দলটির নেতাদের নিজেদের আকাঙ্ক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে করেন। সংগঠনের ভেতরে অন্তর্ভুক্তির অভাব এই বিভাজনকে আরও গভীর করেছে। তরুণ কর্মীদের খুব কম ক্ষেত্রেই দলের গতিপথ নির্ধারণে অর্থবহ ভূমিকা রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। তাঁদের ধারণা, তুলনামূলকভাবে বেশি বাস্তববাদী, উদ্ভাবনী ও পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীল বিষয়গুলো দলে প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। জামায়াত যদি নতুন কণ্ঠস্বরের জন্য নিজেদের উন্মুক্ত না করে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক না হয়, তাহলে দ্রুত পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলটি আরও বেশি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।’ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকভাবমূর্তির সংকট গভীরআবদুর রাজ্জাক তাঁর বইয়ে লিখেছেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ার পর জামায়াতের কয়েকজন নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দলটির জন্য রাজনৈতিক ও আবেগগত—উভয় দিক থেকেই বড় আঘাত ছিল। এসব বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক এবং ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও জামায়াত এই অসন্তোষকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে বৃহত্তর জনসমর্থনে রূপ দিতে পারেনি।’দলের ভাবমূর্তির সংকট আরও গভীর বলে উল্লেখ করেছেন আবদুর রাজ্জাক। তিনি লেখেন, ‘জামায়াতকে এখনো কঠোরভাবে রক্ষণশীল এবং আধুনিকতার প্রতি প্রতিরোধী হিসেবে দেখা হয়। এমন ভাবমূর্তি শহুরে ভোটার ও শিক্ষিত শ্রেণির একটি অংশকে দলটি থেকে দূরে রাখে। অর্থনৈতিক সংস্কার, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও যুবনীতির মতো সমসাময়িক ইস্যুতে অর্থবহভাবে সম্পৃক্ত হতে দলটির অক্ষমতা অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় সম্মিলিতভাবে জাতীয় রাজনীতিতে একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠার জামায়াতের সক্ষমতাকে দুর্বল করেছে।’বাইরের চাপ ও কৌশলগত ভুলআবদুর রাজ্জাক লিখেছেন, ‘রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, গণমাধ্যমে প্রান্তিকীকরণ এবং চলমান আইনি চ্যালেঞ্জসহ জামায়াতকে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বাইরের চাপ মোকাবিলা করতে হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় দলটি প্রায়ই নিজেদের নিপীড়নের শিকার হিসেবে উপস্থাপনের বয়ানের ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু এই আত্মরক্ষামূলক অবস্থান জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়। বরং এটি দলটির দুর্বলতা ও জনজীবন থেকে বিচ্ছিন্নতার ধারণাকেই আরও জোরালো করে।’বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করতে হলে জামায়াতকে অভিযোগনির্ভর রাজনীতির বাইরে গিয়ে সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে বলে বইয়ে মন্তব্য করেছেন আবদুর রাজ্জাক। তাঁর মতে, এই পরিবর্তন না এলে বাংলাদেশের গতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক রাজনৈতিক অঙ্গনে দলটি আরও বেশি প্রান্তিক হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।পুরোনো বয়ানে প্রোথিত, সংস্কারে অনাগ্রহী১৯৮৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন আবদুর রাজ্জাক। ২০০৩ সালে তিনি দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হয়েছিলেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকার জন্য ক্ষমা না চাওয়াকে কেন্দ্র করে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পদত্যাগের আগপর্যন্ত তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন।আবদুর রাজ্জাক তাঁর বইয়ে লিখে গেছেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য ইসলামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করলে জামায়াতের স্থবিরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের অনেক সংগঠন নিজেদের আধুনিকায়ন করেছে—তারা নিজেদের আদর্শের সঙ্গে নতুন বাস্তবতার সমন্বয় করেছে, কৌশল পরিবর্তন করেছে এবং শাসনব্যবস্থা, ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যুতে মনোযোগ দিয়েছে। বিপরীতে, জামায়াত পুরোনো বয়ানের মধ্যে প্রোথিত এবং সংস্কারের ব্যাপারে অনাগ্রহী। ফলে দলটি তরুণ বাংলাদেশিদের আকাঙ্ক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।’২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের সময় এই কৌশলগত দূরদর্শিতার অভাব সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে উল্লেখ করে রাজ্জাক লিখেছেন, সরকারের প্রতি ব্যাপক অসন্তোষ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সামনে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করেছিল। জামায়াত শুধু এই গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নেয়নি, বরং বড় ধরনের ত্যাগও স্বীকার করেছে। বিষয়টি অধিকাংশ মহলেই স্বীকৃত। তবে জামায়াত এই সম্পৃক্ততাকে অর্থবহ রাজনৈতিক পুঁজিতে রূপান্তর করতে পারেনি। নীতি ও শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সুস্পষ্ট অবস্থান না থাকায় দলটি ওই সময়ের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি এবং দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।হাতছাড়া হওয়া এ সুযোগ জামায়াতের বৃহত্তর দুর্বলতা সামনে আনে বলে আবদুর রাজ্জাক উল্লেখ করেছেন। তাঁর দৃষ্টিতে সেই দুর্বলতাগুলো হলো—পুরোনো কৌশল, অভ্যন্তরীণ সংহতির অভাব এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আকর্ষণীয় ও সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে না পারা। রাজ্জাক লিখেছেন, ‘জামায়াত যদি প্রাসঙ্গিক থাকতে চায়, তাহলে তাদের আধুনিকায়ন ও সংস্কার করতে হবে এবং নতুন প্রজন্মের প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচির পুনঃসমন্বয় ঘটাতে হবে।’বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লোগো৫ পরামর্শবইয়ের একেবারে শেষাংশে আবদুর রাজ্জাক লিখেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সামনে এখন একটি সন্ধিক্ষণ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দলটির অবস্থান অনস্বীকার্য। তবে দলটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সেই অতীতের মুখোমুখি হতে পারে কি না, যে অতীতকে তারা এখনো এড়িয়ে চলেছে। টিকে থাকতে হলে দলটিকে সাহস, দূরদর্শিতা এবং পরিবর্তনের প্রতি আগ্রহ প্রদর্শন করতে হবে। জামায়াত এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত দলটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত অবস্থায় ঝুলে আছে।বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনে জামায়াতের একটি গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে হলে দলটিকে মৌলিক সংস্কারের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে উল্লেখ করে এর জন্য দলটিকে পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক। পরামর্শগুলো হলো—১. অতীতের মুখোমুখি হওয়া: ১৯৭১ সালে নিজেদের ভূমিকার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং প্রকৃত জবাবদিহির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া।২. নেতৃত্বের আধুনিকায়ন: তরুণ ও সংস্কারপন্থী ব্যক্তিদের নেতৃত্বে নিয়ে আসা, যাঁরা বর্তমান সময়ের ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম।৩. রাজনৈতিক কর্মসূচির বৈচিত্র্য আনা: আদর্শগত অনমনীয়তার বাইরে গিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া।৪. তরুণদের সম্পৃক্ত করা: বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচিত তরুণদের আকৃষ্ট করে, এমন বয়ান ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।৫. আস্থা পুনর্গঠন: নাগরিক সমাজের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং জাতীয় চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে উন্মুক্ত ও গঠনমূলক সংলাপে অংশ নেওয়া।

বর্তমান সময়ে আমাদের জাতীয় অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে নানামুখী পরিবর্তন ও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পক্ষ থেকেই বিভিন্ন যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।

বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। এই খাতের যথাযথ প্রসার ঘটলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও বেশি শক্তিশালী করবে।

সামগ্রিক এই উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে দীর্ঘমেয়ায়ী ও টেকসই করতে হলে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। আশা করা যাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ মানুষ এর প্রকৃত সুফল ভোগ করবে।

নাগরিক খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ নাগরিক খবর। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।