নাগরিক খবর
ই-পেপার
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার
| বর্ষ: ১ | সংখ্যা: ১ | মূল্য: ৫ টাকা | নাগরিক খবর সংস্করণ
সেলাই মেশিনের শব্দের ফাঁকে শরীফের স্বপ্ন
সেলাই মেশিনের শব্দের ফাঁকে শরীফের স্বপ্ন
সেলাই মেশিনের শব্দের
ফাঁকে শরীফের স্বপ্ন
অনলাইন ডেস্ক:
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এক হাতে বই, অন্য হাতে সেলাইয়ের কাজ। এভাবেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী শরীফ আহমেদ। বয়স কম হলেও পরিবারের দায়িত্ব যেন তাকে অনেক আগেই বড় করে দিয়েছে। ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের মদনপুর আলোর পাঠশালার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র শরীফ। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে তৃতীয়। তার বাবা একজন কৃষক ও দিনমজুর। অন্যের জমিতে কাজ করে কিংবা দিনমজুরি করে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই কোনোভাবে চলে তাদের সংসার। কিন্তু ছয় সদস্যের এই পরিবারের সব খরচ বাবার একার পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব। শরীফের বড় দুই ভাই বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন। ফলে সংসারের অভাব যেন প্রতিদিনই নতুন করে সামনে এসে দাঁড়ায়।এই বাস্তবতার মধ্যেও পড়াশোনা থামিয়ে দেয়নি শরীফ। বিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি অন্যের দোকানে সেলাইয়ের কাজ করে সে। সেলাই করে যে সামান্য আয় হয় তা দিয়ে পরিবারের খরচে সহযোগিতা করার পাশাপাশি নিজের পড়াশোনাটাও চালিয়ে যাচ্ছে সে। দিনের একটি অংশ কাটে বিদ্যালয়ে আর বাকিটা সেলাইয়ের দোকানে। ক্লান্ত শরীর নিয়েও বই খুলে বসে শরীফ। কারণ তার কাছে পড়াশোনা শুধু বিদ্যালয়ে যাওয়ার নাম নয়, এটি নিজের জীবন বদলে দেওয়ার এক দূরদর্শী স্বপ্ন।উল্লেখ্য, মদনপুর ইউনিয়নটি দীর্ঘদিন ধরে নানা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এখানকার দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্য নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অনেকটা স্বপ্নের মতো। অনেক শিশুকাল থেকেই অভাবের তাড়নায় কাজে নেমে পড়তে হয়। এমন বাস্তবতায় প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত মদনপুর আলোর পাঠশালা এই শিশুদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে, যেখানে তারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। অভাব পথ আটকে দিতে চাইলেও শরীফের মতো অদম্য শিশুরা থামতে রাজি নয়। সুযোগ ও সামাজিক সহযোগিতা পেলে মদনপুরের এই শিশুরাও একদিন নিজেদের জীবন বদলে দিয়ে সাফল্যের নতুন গল্প তৈরি করতে পারবে।

বর্তমান সময়ে আমাদের জাতীয় অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে নানামুখী পরিবর্তন ও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পক্ষ থেকেই বিভিন্ন যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।

বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। এই খাতের যথাযথ প্রসার ঘটলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও বেশি শক্তিশালী করবে।

সামগ্রিক এই উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে দীর্ঘমেয়ায়ী ও টেকসই করতে হলে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। আশা করা যাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ মানুষ এর প্রকৃত সুফল ভোগ করবে।

নাগরিক খবর
নাগরিক খবর
প্রিন্ট এর তারিখঃ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

সেলাই মেশিনের শব্দের ফাঁকে শরীফের স্বপ্ন

জাতীয় / সংসদ সংবাদ
অনলাইন ডেস্ক
সেলাই মেশিনের শব্দের ফাঁকে শরীফের স্বপ্ন

এক হাতে বই, অন্য হাতে সেলাইয়ের কাজ। এভাবেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী শরীফ আহমেদ। বয়স কম হলেও পরিবারের দায়িত্ব যেন তাকে অনেক আগেই বড় করে দিয়েছে। ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের মদনপুর আলোর পাঠশালার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র শরীফ। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে তৃতীয়। তার বাবা একজন কৃষক ও দিনমজুর। অন্যের জমিতে কাজ করে কিংবা দিনমজুরি করে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই কোনোভাবে চলে তাদের সংসার। কিন্তু ছয় সদস্যের এই পরিবারের সব খরচ বাবার একার পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব। শরীফের বড় দুই ভাই বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন। ফলে সংসারের অভাব যেন প্রতিদিনই নতুন করে সামনে এসে দাঁড়ায়।এই বাস্তবতার মধ্যেও পড়াশোনা থামিয়ে দেয়নি শরীফ। বিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি অন্যের দোকানে সেলাইয়ের কাজ করে সে। সেলাই করে যে সামান্য আয় হয় তা দিয়ে পরিবারের খরচে সহযোগিতা করার পাশাপাশি নিজের পড়াশোনাটাও চালিয়ে যাচ্ছে সে। দিনের একটি অংশ কাটে বিদ্যালয়ে আর বাকিটা সেলাইয়ের দোকানে। ক্লান্ত শরীর নিয়েও বই খুলে বসে শরীফ। কারণ তার কাছে পড়াশোনা শুধু বিদ্যালয়ে যাওয়ার নাম নয়, এটি নিজের জীবন বদলে দেওয়ার এক দূরদর্শী স্বপ্ন।উল্লেখ্য, মদনপুর ইউনিয়নটি দীর্ঘদিন ধরে নানা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এখানকার দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্য নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অনেকটা স্বপ্নের মতো। অনেক শিশুকাল থেকেই অভাবের তাড়নায় কাজে নেমে পড়তে হয়। এমন বাস্তবতায় প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত মদনপুর আলোর পাঠশালা এই শিশুদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে, যেখানে তারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। অভাব পথ আটকে দিতে চাইলেও শরীফের মতো অদম্য শিশুরা থামতে রাজি নয়। সুযোগ ও সামাজিক সহযোগিতা পেলে মদনপুরের এই শিশুরাও একদিন নিজেদের জীবন বদলে দিয়ে সাফল্যের নতুন গল্প তৈরি করতে পারবে।

বর্তমান সময়ে আমাদের জাতীয় অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে নানামুখী পরিবর্তন ও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পক্ষ থেকেই বিভিন্ন যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।

বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। এই খাতের যথাযথ প্রসার ঘটলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও বেশি শক্তিশালী করবে।

সামগ্রিক এই উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে দীর্ঘমেয়ায়ী ও টেকসই করতে হলে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। আশা করা যাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ মানুষ এর প্রকৃত সুফল ভোগ করবে।

নাগরিক খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ নাগরিক খবর। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।