বয়স তাঁর ৯০ ছাড়িয়ে গেছে, শতবর্ষ অপেক্ষা করছে। এখনো তিনি চিনতে পারেন, মনে করতে পারেন তাঁর ছাত্রীদের নাম। স্মৃতি এখনো তাঁর প্রখর। বাংলাদেশের অন্যতম দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার কথা এখনো তাঁর মনে পড়ে। রণদা প্রসাদ সাহার কথায় তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং সারা জীবন নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে কাজ করে গেছেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ—সব ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। নারীর মর্যাদা ও শিক্ষা নিয়ে কথা বলেছেন—সেই মানুষটির নাম হচ্ছে প্রতিভা মুৎসুদ্দি। মেয়েরা তাঁকে আদর করে ডাকত ‘মিস মুৎসুদ্দি’ বা ‘মিস’। কুমুদিনী পরিবার তাঁকে আদর করে ‘বড় মা’ বলে ডাকে। প্রতিভা মুৎসুদ্দি বাংলাদেশের নারীর অগ্রযাত্রায় অন্যতম একটি নাম। বাংলাদেশের নারীশিক্ষার অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভারতেশ্বরী হোমস-এর প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রভাষক থেকে অধ্যক্ষ এবং পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ। প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন।নারী জাগরণের অন্যতম অগ্রদূত এই নারী ১৯৩৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মহামুনি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা কিরণ বিকাশ মুৎসুদ্দি ছিলেন আইনজীবী। মা শৈলবালা মুৎসুদ্দি গৃহিণী। তিনি চট্টগ্রাম খাস্তগীর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, চট্টগ্রাম থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও বিএ এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৫৬-১৯৫৭ শিক্ষাবর্ষে রোকেয়া হলের (তৎকালীন উইমেন্স হল) প্রথম নির্বাচিত ভিপি। ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী থাকা অবস্থায় স্বাধিকার আন্দোলনের এক মিছিল থেকে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং দুই সপ্তাহ কারাবাসের পর মুক্ত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৬ সালে অর্থনীতিতে সম্মান এবং ১৯৫১ সালে এমএ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ১৯৫৫-৫৬ শিক্ষাবর্ষে ডাকসু মহিলা মিলনায়তন সম্পাদক নির্বাচিত হন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, দেশভাগ ভাষার দাবিতে আন্দোলিত সময়ে বেড়ে উঠেছেন প্রতিভা মুৎসুদ্দি। ১৯৬০ সালে ময়মনসিংহ মহিলা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৩ সালে নারীশিক্ষার পাদপীঠ ভারতেশ্বরী হোমসে অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৫ সালে রণদা প্রসাদ সাহার একান্ত ইচ্ছায় তিনি ভারতেশ্বরী হোমসের অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহাকে (আর পি সাহা) এবং তাঁর পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহাকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপহরণ ও হত্যা করে। এই চরম সংকটের সময়ে প্রতিভা মুৎসুদ্দি কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট এবং এর অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন কুমুদিনী হাসপাতাল ও ভারতেশ্বরী হোমস) হাল ধরেন এবং গুরুদায়িত্ব পালন করেন। শহীদ রণদা প্রসাদ সাহার কন্যা জয়পতি সাহা ও শহীদ ভবানী প্রসাদ পুত্রবধূ শ্রীমতি সাহার হাতে হাত রেখে কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থাকে বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, যা এখনো চলমান। রণদা প্রসাদ সাহার শিক্ষা ও সমাজসেবায় অনন্য অবদানের জন্য তিনি বেশ কিছু মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর সময়ে ভারতেশ্বরী হোমস ১৯৮৭ সালে স্কুল হিসেবে এবং ১৯৯৫ সালে কলেজ হিসেবে দেশসেরার মর্যাদা পায়। একটানা দীর্ঘ ৩৩ বছর সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। নারীশিক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০২ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: ns@prothomalo.comবিনা চিকিৎসায় মাকে হারিয়ে সেই মাকে স্মরণে রাখার জন্য একদিন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলেন কোনো মাকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করতে দেবেন না, সেই লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থা। কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থা আজ বৃহৎ একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সেবা করে যাচ্ছে দেশ ও জাতির কল্যাণে। নারীশিক্ষার অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভারতেশ্বরী হোমস। রণদা প্রসাদ সাহার স্বপ্ন ছিল একজন কন্যা যেন শুধু কন্যা নয়, একজন পরিপূর্ণ নারী হিসেবে দেশ ও জাতির জন্য অবদান রাখতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে।প্রতিভা মুৎসুদ্দি নারীর কল্যাণে, দেশ ও জাতির মঙ্গলে কাজ করে চলেছেন এখনো। জীবনে একটি লক্ষ্য ছিল, সেটা মানবসেবা। একদিন যে স্বপ্ন দেখেছিলেন রণদা প্রসাদ সাহা, সেই ব্রতে ব্রতী ছিলেন তিনি। কুমুদিনীর ‘বড় মা’র মৃত্যুর পর তাঁর দেহটি চিকিৎসা শিক্ষায় অবদান রাখতে পারে, সেই ব্যবস্থাও তিনি করে রেখেছেন তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর দেহটি দানের অঙ্গীকারের মাধ্যমে। আরও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকুক এই মানুষটি।লেখক: বাপি সাহা
বর্তমান সময়ে আমাদের জাতীয় অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে নানামুখী পরিবর্তন ও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পক্ষ থেকেই বিভিন্ন যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।
বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। এই খাতের যথাযথ প্রসার ঘটলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও বেশি শক্তিশালী করবে।
সামগ্রিক এই উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে দীর্ঘমেয়ায়ী ও টেকসই করতে হলে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। আশা করা যাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ মানুষ এর প্রকৃত সুফল ভোগ করবে।