কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের লতিফ শিকদার এলাকায় ফাতেমা আক্তার (১৭) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে চৌদ্দগ্রাম থানার পুলিশ সদস্যরা।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুক ও আসবাবপত্রের দাবি পূরণ না করায় বিয়ের পর থেকেই ফাতেমার শশুর বাড়ির লোকজন ফাতেমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে পারিবারিক ভাবে চিওড়া ইউনিয়নের লতিফ শিকদার এলাকার দরবারের লেদু মিয়ার ছেলে ও প্রবাস ফেরত তানভির আহমেদ অভি প্রকাশ (সানি) মিয়ার সঙ্গে ফাতেমার বিয়ে হয়।
ফাতেমার বাবা শহিদুল ইসলাম বাদন জানান, আর্থিক সংকটের কারণে বিয়ের সময় যৌতুক ও আসবাবপত্রের দাবি তাৎক্ষণিকভাবে পূরণ করা সম্ভব হয়নি, যৌতুকের কারনে বিয়ের পর থেকেই ফাতেমাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলে নিহতের বাবা অভিযোগ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তানভির আহমেদ অভি প্রবাস থেকে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে এলেও পুনরায় বিদেশে চলে যাবেন—এমন কথা অনুযায়ী ফাতেমার সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকে অভি'র মা তাসলিমা বেগম ও সুমাইয়া (বোন) গৃহবধূ ফাতেমার ওপর বিভিন্ন সময় তাদের বাড়িতে থাকা অবস্থায় নির্যাতন চালাতেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গৃহবধূ ফাতেমা'কে তার বেডরুমে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর থেকেই স্বামী অভি পলাতক রয়েছে।
নিহত ফাতেমা আক্তার ধোরকরা বাজারের পশ্চিমে কাগাইশ এলাকার শহিদুল ইসলাম বাদন ও রাশেদা বেগমের মেয়ে।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে। এটা কি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক রিপোর্ট আসলে জানা যাবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।