বল হাতে দুর্দান্ত সময় পার করছেন হাসান মাহমুদ। টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিচ্ছেন এই ডানহাতি পেসার। সবশেষ সিলেট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে তুলে নিয়েছেন ৬ উইকেট। দুর্দান্ত এই বোলিংয়ে দলকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখার পাশাপাশি গড়েছেন অনন্য এক রেকর্ডও। নাথান লায়নের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন দেশে টেস্ট ক্রিকেটে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন হাসান। এমন অর্জনে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দিত তিনি। তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের জন্য অবদান রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এই পেসার। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের পারফরম্যান্স ও উইকেটের আচরণ নিয়ে কথা বলেন হাসান। সিলেটের উইকেটে পেসারদের জন্য সহায়তা থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সেটি ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ হয়ে ওঠে বলে জানান তিনি। হাসান বলেন, ‘সিলেটে সবসময় সিম মুভমেন্ট থাকে। বেশিরভাগ সময় উইকেট ফাস্ট বোলারদের পক্ষেই থাকে। তবে ১-২ ঘণ্টা পর উইকেট সম্ভবত খুবই ফ্ল্যাট হয়ে গিয়েছিল। মানে ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি হয়ে গিয়েছিল। আমরা ফাস্ট বোলাররা চেষ্টা করেছি লাইন-লেন্থ ঠিক রেখে বল করার।’ পাঁচটি দেশে পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে হাসান বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে সবগুলো ফাইফারই স্পেশাল। সব জায়গায় চেষ্টা করি নিজের সেরাটা দেওয়ার এবং দলে অবদান রাখার।’ এদিকে ম্যাচে লিটন দাসের দুর্দান্ত স্টাম্পিংয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বোলারদের পরিকল্পনার। ব্যাটারের ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে খেলার প্রবণতা বুঝে উইকেটের পেছনে লিটনকে কিছুটা ওপরে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা সফল হওয়ায় স্টাম্পিংয়ের সুযোগ তৈরি হয়। হাসান বলেন, ‘ঐ সময় ব্যাটার একটু স্টেপিং করে খেলছিল। দাদা ও শান্ত ভাই বলছিল, হাসান, যদি ওপরে কিপিং করি হয়ত ফিট মুভমেন্ট করবে না বা শটস খেলা কমে যাবে। আমি বললাম, দাদা আপনি যদি কমফোর্টেবল থাকেন অবশ্যই আপনার প্ল্যানে যাব। পরে উনি গিয়েছিলেন এবং ভালো প্ল্যান এক্সিকিউশন হয়েছে।’