বোর্ড প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শত্রুতা আছে, এমন কারও কি কোয়াবের সভাপতি হতে হবে
ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবকে অনেকে বলেন ‘বিসিবির ছায়া’, বিসিবি সভাপতির ঘনিষ্ঠ বলে হরহামেশা সমালোচনার তির ছুটে যায় সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনের দিকেও। গতকাল বিসিবি কার্যালয়ে কোয়াব সভাপতির রুমে বসে প্রথম আলোকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব বিষয়েই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন—৪ সেপ্টেম্বর কোয়াবের নতুন কমিটি এক বছর পূর্ণ করল। সভাপতি হিসেবে আপনার জন্য সময়টা কেমন কেটেছে?মোহাম্মদ মিঠুন: কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। অনেক ধরনের হুমকি এসেছে। কোয়াব খেলোয়াড়দের স্বার্থ রক্ষা করবে, তাদের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলবে—মানুষের কাছে মনে হচ্ছে এটা নতুন। আমাদের কমিটি আসার পরে আমরা যেভাবে প্রতিটি বিষয়ে কথা বলেছি, সক্রিয়ভাবে সামনে এসেছি; এটা দেখে অনেকে অবাক হয়েছে। আমার এমনও শুনতে হয়েছে যে, ‘এত কথা বল কেন?’হুমকি বলতে কী বোঝাতে চাইলেন?মিঠুন: কোয়াবের নির্বাচনের আগে আমার কাছে বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসা শুরু হলো, বিভিন্ন ধরনের হুমকি আসা শুরু হলো; কেন আমরা নির্বাচন নিয়ে কথা বলছি। পরে তো বিপিএলের সময়ও একটা ঘটনা নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিল…আমি বেশি কথা বলছি, আমার অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে—এসব।কারা এসব হুমকি দিল, জানতে পেরেছেন?মিঠুন: বেশির ভাগই এসেছে অচেনা নম্বর থেকে। আমার পক্ষে তো না জেনে বলা কঠিন ওরা কারা। আমি হয়তো অনুমান করতে পারি, তবে প্রমাণ ছাড়া তো কিছু বলতে পারি না।জাতীয় দলের জার্সিতে মোহাম্মদ মিঠুনআপনারা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বারবার আলোচনায় আসছে কোয়াব এবং অনেক সময়ই তা নেতিবাচক কারণে। এটার কারণ কী?মিঠুন: আমার মনে হয় কোয়াবের যে নির্বাচনে আমরা নির্বাচিত হয়েছি, সেই সময়টা ভালো ছিল না। নির্বাচনের সময়টাতে দেশের মধ্যেই একটা অস্থিরতা ছিল। ব্যাপারগুলো তখন এ রকম ছিল, যে যার পক্ষে যাচ্ছে সে খুশি। যার বিপক্ষে যাচ্ছে সে আমাদের ওপর অখুশি। তবে আমাদের কাজটা খেলোয়াড়কেন্দ্রিক। আমরা ক্রিকেটারদের মর্যাদার জন্যই লড়াই করেছি।ক্রিকেট মাঠে যে মানুষটা সবকিছু পারতেন এক বছরে ক্রিকেটারদের স্বার্থে কী কী উদ্যোগ নিয়েছে কোয়াব?মিঠুন: দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা শূন্য থেকে শুরু করি। কোয়াবের ফান্ডে কোনো টাকা ছিল না। নির্বাচনের আগ থেকেই ফান্ড একদম ‘জিরো’। আমরা ১৬ ডিসেম্বর একটা ফান্ড রাইজিং ম্যাচ খেলি। প্রক্রিয়াগত কারণে আমরা কোয়াবের ব্যাংক হিসাবে ঢুকতে পেরেছি মাত্র কিছুদিন আগে। তার আগে আমরা নিজেদের টাকা বা মানুষের কাছ থেকে টাকা চেয়ে কার্যক্রম চালিয়েছি। ঢাকায় একজন সাবেক খেলোয়াড় ও সিলেটে একজন গ্রাউন্ডসম্যানের চিকিৎসায় সহায়তা করেছি। আরেকজন সাবেক ক্রিকেটারের একসঙ্গে পাঁচটি সন্তান হয়েছে। সেখানে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হয়েছে। বাচ্চাদের বাসায় নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত পুরো খরচ বিভিন্ন জায়গা থেকে আমরা ম্যানেজ করেছি। এখনো অনেক সাবেক ক্রিকেটারের পাশে আমরা আছি। খেলোয়াড়দের অধিকার আদায় ও মর্যাদা রক্ষার্থেও কাজ করেছে কোয়াব। আপনারা জানেন বিসিবির দায়িত্বশীল জায়গা থেকে ক্রিকেটারদের প্রকাশ্যে গালিগালাজও করা হয়েছে, যেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মানুষ দেখেছে আমরা প্রতিবাদে বিপিএলে ম্যাচ বয়কট করেছি। কিন্তু তার আগে আমরা একটা সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলাম যে খেলোয়াড়দের সম্মান দেখিয়ে কথা বলেন। আমরা দেখাতে চেয়েছি আমাদেরও কিছু করার আছে। খেলোয়াড়েরা কেউ এটা মেনে নিতে পারেনি। একে তো তখন ঘরোয়া ক্রিকেট ঠিকভাবে হচ্ছিল না, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে গেল না—সব মিলিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে একটা হতাশা ছিল, যার প্রতিফলন একসঙ্গে ঘটেছে। যখন প্রথম বিভাগের ক্লাবগুলো খেলতে রাজি হচ্ছিল না, আমি তখনকার সভাপতি বুলবুল ভাইয়ের (আমিনুল ইসলাম) কাছে জানতে চেয়েছিলাম, বিকল্প কী? আমার কাছে তখন এসএমএস আসে, ‘এসব মাইক্রো ইস্যু নিয়ে কথা বলার সময় আমার নেই, আমার অনেক কাজ।’ কিন্তু ওটা আমার কাছে মাইক্রো ইস্যু ছিল না। এই এক বছরে সবচেয়ে বড় সফলতা বলব, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন থেকে শুরু করে ম্যাচ ফি ও অন্যান্য সুযোগ–সুবিধা বাড়াতে পারাটাকে। এখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ১৫০ জনের মতো ক্রিকেটার সব ম্যাচ খেললে শুধু বিসিবির খেলা থেকেই সব মিলিয়ে বছরে ৪০ লাখ টাকার মতো আয় করতে পারবে। আমরা ক্রিকেটারদের এই আর্থিক নিশ্চয়তাটা দিতে চেয়েছিলাম।জাতীয় দলের অনুশীলনে মোহাম্মদ মিঠুনবাংলাদেশ দল যে গত বছর টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলল না, সেখানে কোয়াবের কী ভূমিকা ছিল?মিঠুন: আমরা সামগ্রিকভাবে সব খেলোয়াড়ের মতামত নিয়েছি। ওই সময় দেশের বিষয়টাই সবার আগে এসেছিল। আমরাও দেশের বাইরে নই। দেশের বিপক্ষে আমরা কখনোই যাব না। তবে ক্রিকেটের কথা চিন্তা করে আমরা চেয়েছিলাম যে যদি সম্ভব হয় বাংলাদেশ যেন বিশ্বকাপটা মিস না করে। আসলে আমরা তো সরাসরি বলতে পারতাম না যে আমরা খেলতে যাবই বা খেলতে যেতে চাই।লেগ স্পিনের ‘রকস্টার’ ওয়ার্ন, আর তাঁর চোখে সেরা ১১ কোয়াবের বর্তমান কমিটি নিয়ে অভিযোগ, এই কমিটি বিসিবি দ্বারা অতিরিক্ত প্রভাবিত। কী বলবেন এ ব্যাপারে?মিঠুন: বিসিবির সঙ্গে সুসম্পর্ক না রাখলে তো কোয়াব কোনো কিছু অর্জন করতে পারবে না। বিসিবির ভালো কাজে বিসিবিকে সমর্থন করতেই হবে। আবার খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে বিসিবি অন্যায়ভাবে কিছু করলে তখন আমাদেরও কঠোর হতে হবে। ডব্লিউসিএ (ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন) এবং আইসিসির সম্পর্কও এ রকমই। আমাদের দেশে সমস্যা হচ্ছে সবকিছু বাইরে চলে আসে। ডব্লিউসিএ আর আইসিসির মধ্যে প্রতিনিয়ত আলোচনা চলছে, কিন্তু কখনো সেটা বাইরে আসে না। এমন নয় যে ওদের খুব বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। তারাও একে অন্যের ওপর বিরক্ত হয়, নীরব যুদ্ধ চলে। একই সঙ্গে তারা টেবিলে বসে একটা সমাধান নিয়ে আসে, যেখানে দুই পক্ষেরই ‘উইন উইন সিচুয়েশন’ থাকে। আপনি সব সময় যদি চান, আমিই জিতব, হবে না। আপনাকে কখনো ছাড়ও দিতে হবে। আমার আগে দেখতে হবে যে আমার যাদের স্বার্থ দেখার দায়িত্ব, তারা যেন বঞ্চিত না হয়।কোয়াবের এক সংবাদ সম্মেলনে সতীর্থদের সঙ্গে সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনকোয়াব বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের কথার বাইরে যায় না বলেও সমালোচনা আছে। বিসিবি সভাপতির সঙ্গে আপনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও কথা হয়। বিসিবি আপনাদের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অফিস করে দিয়েছে, আপনার জন্য এত সুন্দর রুম—এগুলো তো স্বার্থের সংঘাতের শঙ্কা রাখে, নাকি?মিঠুন: প্রথমত বলি, এটা এনএসসির জায়গা। আমরা এনএসসির কাছ থেকে বুলবুল ভাইয়ের বোর্ডের সময়ই জায়গাটা ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছি। বিসিবি হয়তোবা অফিসটা সাজিয়ে দিয়েছে। তবে প্রক্রিয়াটা বেশ আগের। অন্য যেটা আপনি বললেন, এটার কী উত্তর হবে আমার জানা নেই। তাহলে তো প্রশ্নটা এ রকম দাঁড়ায় যে বোর্ড প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শত্রুতা আছে, এমন কারও কি কোয়াবের সভাপতি হতে হবে! তাহলে বলব, সে রকম যদি কেউ থাকেন, বোর্ডের সঙ্গে শত্রুতা করে কোয়াব চালাবেন, ওয়েলকাম। আর আমার এই চেয়ারে বসাটা অনেকটা কাকতালীয়ভাবে। আমরা অনেককেই সভাপতি করার চেষ্টা করেছি। মুশফিক ভাই বলেন, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ভাই বলেন, এমনকি আকবর আলীকেও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল সভাপতি হওয়ার। কিন্তু তাঁরা কেউ দায়িত্ব নিতে চাননি। তখন এটা আমার কাছে আসে। কাজেই বিষয়টা এমন নয় যে আমি ফার্স্ট চয়েস ছিলাম। আর আমি মনে করি না, কোয়াবকে সব সময় বিসিবির সঙ্গে ঝগড়া করে চলতে হবে। ক্রিকেটারদের স্বার্থের বিষয়ে বর্তমান সভাপতির সঙ্গে অত দূর পর্যন্ত যেতেও হয় না। তার আগেই উনি বুঝে নেন খেলোয়াড়দের কতটুকু পাওয়া উচিত।‘কখনো ভাবিনি যে, একটা বোর্ড এত নগ্নভাবে ভেঙে দিতে পারে’বিসিবি এবার বিপিএল আয়োজন করছে না। এতেও তো অনেক ক্রিকেটার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কোয়াব বিসিবির এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেনি কেন?মিঠুন: দেখুন, আমরা বিপিএল না করার প্রস্তাব একবাক্যে মেনে নিইনি। আপনিও জানেন, এ বছর বিপিএল না হওয়ার আলোচনাটা অনেক দিন ধরে হয়ে আসছে। তো আলোচনার এক পর্যায়ে খেলোয়াড়েরাও একমত হয় যে যেভাবে বিপিএল হচ্ছে, সেটা দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এই নোংরামি কোনো খেলোয়াড় সমর্থন করে না। খেলোয়াড়েরা স্বচ্ছ বিপিএল চায়। আইপিএল বা পিএসএল বা বিগব্যাশ যে রকম একটা নির্দিষ্ট সময়ে হয়, বিপিএলও সেভাবে হতে হবে। আমরা অবশ্যই চেয়েছি যে একটা গোছানো বিপিএল হোক। একই সঙ্গে বলেছি, আমরা কোনোভাবেই বিপিএল মিস করতে চাই না। কীভাবে টুর্নামেন্টটাকে সুন্দর করতে হবে, সেটা বিসিবির দায়িত্ব। এরপর একটা সময়ে বিসিবি বলল যে এ বছর এত অল্প সময়ের মধ্যে কোনোভাবেই বিপিএল আয়োজন সম্ভব নয়। তারা এটাকে নিজেদের ব্যর্থতা বলেও স্বীকার করে নেয়। তখন প্রশ্ন এল, বিপিএল না হলে বিকল্প হিসেবে আমরা কী পেতে পারি? ক্রিকেট বোর্ড থেকে বিকল্প প্রস্তাব এল। এনসিএলের যে বাড়তি টি–টুয়েন্টিটা হবে, ওখানে ম্যাচ ফি বাড়িয়ে দেবে। সেটাও খুব বেশি নয়—সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা হতে পারে টপ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের, সর্বনিম্ন দেড় লাখ…এ রকম। ছয়টা দলে ১৫ জন করে মোট ৯০ জন ক্রিকেটার খেলবে এতে। তবে এই ম্যাচ ফি শুধু এবারের জন্যই। আগামীবার যেহেতু বিপিএল হবে, তখন আবার এটার ম্যাচ কমে হয়ে যাবে ৪০ হাজার টাকা। আমরা তখন ভাবলাম, যেহেতু বিপিএল হচ্ছে না, শুধু এই ৯০ জনের চিন্তা না করে আমরা ক্রিকেটারদের জন্য আরও বড় আকারে সুবিধা নিতে পারি কি না! যাতে ক্রিকেটাররা আর্থিকভাবে নিরাপদ জীবন পাবে। আমরা শুধু একটা বিকল্প টুর্নামেন্ট না চেয়ে স্থায়ী সমাধান চেয়েছি। তখনই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে টাকা বাড়ানোর আলোচনা আসে। একজন মাঝারি বা নিচের দিকের খেলোয়াড় বিপিএল খেলে হয়তো ১০–১৫ লাখ টাকা পেত, এখন সে শুধু বিসিবির ক্রিকেট খেলেই প্রায় ৪০ লাখ টাকা পাবে, ক্লাব ক্রিকেট তো এর বাইরে! শীর্ষ ৩০–৪০ জন ক্রিকেটার বাদ দিলে বেশির ভাগ ক্রিকেটারের এতে লাভই হয়েছে। এখানে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের আত্মত্যাগ আছে, সেটার প্রশংসা করতে হবে। এটা ঠিক যে বোর্ডের বিপিএল না করার সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিয়েছি, কিন্তু সেটা ক্রিকেটারদের জন্য অন্য সুবিধা নিশ্চিত করে। তা ছাড়া বিসিবি আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আগামী বছর থেকে আবার বিপিএল হবে, পরিচ্ছন্নভাবে হবে। এক বছর স্যাক্রিফাইস করা তো সেই কারণেই।প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৬টি সেঞ্চুরি মিঠুনের কিন্তু ২০২৪ সালে ফারুক আহমেদ বোর্ড সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পরপর ক্রিকেটাররাই অনেকটা জোর করে তাঁকে দিয়ে বিপিএল আয়োজন করিয়েছিল, যার পরিণতি ছিল অগোছালো একটা টুর্নামেন্ট। ক্রিকেটারদের সেই জোর করাটা কি তাহলে ভুল ছিল?মিঠুন: দেখুন, তখন আমি কোয়াবের কেউ ছিলাম না। আমি তখন একজন খেলোয়াড় মাত্র। তবে আমার মনে হয় তখন খেলোয়াড়দের সামনে বিকল্প কোনো সমাধান দেওয়া হয়নি। বিকল্প প্রস্তাব এলে অন্য কিছু হতে পারত। এবার আমরাও তো বিপিএল চেয়েছি। এখন বোর্ড যখন বলছে, ‘আমরা পারব না’, আমরা তখন সেটা ‘উইথ বেনিফিট’ মেনে নিয়েছি।‘বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে এখন কোনো সমস্যা নেই’—সাক্ষাৎকারে তামিম ইকবাল প্রিমিয়ার লিগে এ বছর ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েস’ পদ্ধতিতে দলবদলের আলোচনা হচ্ছে। এ ব্যাপারে কোয়াবের অবস্থান কী?মিঠুন: বোর্ড এখনো আমাদের কিছু বলেনি এ ব্যাপারে। তবে আমরা গতকাল (পরশু) এ নিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মতামত নিয়েছি। আলোচনায় যেটা এসেছে, গত দুই বছরে অনেক দল ৫০ লাখ টাকাও খরচ করেনি দল গঠনে। এমনও শুনেছি বোর্ড থেকে অনুদানের যে টাকা দিয়েছে, খেলোয়াড়ের টাকা দিয়েও কোনো কোনো দল সেখান থেকে টাকা বাঁচিয়েছে। দল গঠনে মোটামুটি টাকা খরচ করে মাত্র তিনটা দল। ৯টা দলই ভালো দল করছে না, তারা এক কোটি টাকার মধ্যে দল করে ফেলছে। যে ছেলেটা আগে ১০-১৫ লাখ টাকা নিয়ে খেলত বা ২০ লাখ টাকা নিয়ে খেলত, সে গত দুই বছরে ৫ লাখ বা ৩ লাখ টাকা পেয়েছে। কাজেই ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েসে’ হয়তো খেলোয়াড়েরা মত দেবে, তবে সেটা শর্ত সাপেক্ষে। টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তার শর্ত। টাকার অঙ্কও বাস্তবভিত্তিক হতে হবে। যে ৭০ লাখ পেত, তাকে তো ৪০ লাখ দিলে হবে না!শেষ প্রশ্ন, ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউসিএ) সঙ্গে আপনাদের যোগাযোগ কেমন?মিঠুন: খুবই ভালো। ডব্লিউসিএ–এর সঙ্গে ভারত ছাড়া বিশ্বের প্রতিটি দলের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের একটা চুক্তি আছে। আইসিসির বড় বড় ইভেন্টগুলো থেকে ডব্লিউসিএ–এর মাধ্যমে খেলোয়াড়েরা ইমেজ রাইটস হিসেবে টাকা পান। এটা কিন্তু ভালো অঙ্ক, প্যাট কামিন্স বিশ্বকাপে ৪০ হাজার ডলার পেয়েছেন শুধু এখান থেকেই। আমাদের খেলোয়াড়েরা এত দিন এটা পায়নি, কারণ ওদের চুক্তিটা স্বাক্ষর করা ছিল না। এবার দল যখন অস্ট্রেলিয়ায় গেল, তখন সব খেলোয়াড় ওখানে চুক্তি সই করেছে। আমাদের চুক্তিভুক্ত নারী ও পুরুষ সবাই এখন বড় ইভেন্টগুলো থেকে ইমেজ রাইটসের অর্থ পাবে। চুক্তি সই করার পর ম্যাকাইতে ডব্লিউসিএ আমাদের পাঁচ ক্রিকেটারকে একটা সাইনিং প্রোগ্রামে নিয়েছিল, যেখানে প্রত্যেককে ১০ হাজার ডলার করে দিয়েছে।স্যার গ্যারি সোবার্স এবং এক অদ্ভুত সাক্ষাৎকার
বর্তমান সময়ে আমাদের জাতীয় অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে নানামুখী পরিবর্তন ও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পক্ষ থেকেই বিভিন্ন যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।
বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। এই খাতের যথাযথ প্রসার ঘটলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও বেশি শক্তিশালী করবে।
সামগ্রিক এই উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে দীর্ঘমেয়ায়ী ও টেকসই করতে হলে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। আশা করা যাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ মানুষ এর প্রকৃত সুফল ভোগ করবে।
-
অভাব-অনিশ্চয়তা পেরিয়ে জিপিএ-৫, এখন কলেজে পড়ার খরচ চিন্তা
-
সকালেই পড়ুন আলোচিত ৫ খবর
-
বোর্ড প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শত্রুতা আছে, এমন কারও কি কোয়াবের সভাপতি হতে হবে - prothomalo.com
-
সহশিল্পীর প্রেমে পড়েছিলেন সাবা কামার, অতঃপর... - prothomalo.com
-
রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে স্টেশন ঘেরাও, ট্রেনের যাত্রা বাতিল - Dhakatimes24
-
খুলনায় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা : ছাদ থেকে ফেলে দেওয়াসহ যেসব তথ্য সামনে এল
-
এআই খাতে ওয়ারেন বাফেটের দূরদর্শী বিনিয়োগ, কীভাবে মুনাফা করছেন
-
৪৪ বছর বয়সে সন ইয়ের সাহসী প্রত্যাবর্তন, আলোচনায় নিষিদ্ধ সময়ের প্রেমের গল্প
-
৭ মাসে ১৫ কেজি কমালেন অভিনেত্রী শখ, ফিরছেন অভিনয়ে - vibenewsbd.com
-
Weather Alert: সাগরে নিম্নচাপের চোখ রাঙানি, ফের তুমুল ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা, একাধিক জেলায় - ABP Ananda
-
বোর্ড প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শত্রুতা আছে, এমন কারও কি কোয়াবের সভাপতি হতে হবে
-
মাদারীপুরে নজরুল-আগমনের শতবর্ষ ও ধীবর সম্মেলন
-
শিশু নিখোঁজ হলে সবার আগে যা করবেন
-
হারিকেনের আলোয় রাত জেগে পড়া নজরুলের তিন বিসিএসে সাফল্য
-
পরাশক্তির খেলায় পাকিস্তানের বড় বাজি কি কাজে লাগবে