সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন | আর্টিকেল টপ

আমাদের নিউজ পোর্টালে আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন →

বাংলাদেশের খুচরা ও কার্ড ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে চায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
১৩৮ Shares
বাংলাদেশের ভোক্তা বা খুচরা ব্যাংকিং (রিটেইল) ব্যবসা ও ক্রেডিট কার্ড সেবা বিক্রি করতে চায় বহুজাতিক ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। ১৭৩ বছরের পুরোনো এই

বাংলাদেশের ভোক্তা বা খুচরা ব্যাংকিং (রিটেইল) ব্যবসা ও ক্রেডিট কার্ড সেবা বিক্রি করতে চায় বহুজাতিক ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। ১৭৩ বছরের পুরোনো এই ব্যাংকের ব্যবসা অধিগ্রহণে আগ্রহ দেখিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যাক ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক। ইতিমধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের সঙ্গে এ নিয়ে পৃথক সভা করেছে তারা। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের প্রধান কার্যালয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে দেখা করেও বিষয়টি অবহিত করে গেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ও তিন ব্যাংকের একাধিক সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি না হওয়ায় আগ্রহী ব্যাংকের কর্মকর্তারা এখনই নাম প্রকাশে কিছু বলতে রাজি হননি। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি বাংলাদেশে রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে বহুজাতিক ব্যাংক দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি)। এর আগে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেয় আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংক।সূত্র জানায়, চলতি বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশের রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার আগ্রহ দেখায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। এরপরই দেশের কয়েকটি ব্যাংক রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসার অংশ অধিগ্রহণে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের সঙ্গে আলোচনা করে। তবে এখন পর্যন্ত ব্র্যাক ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক অধিগ্রহণে দৌড়ে এগিয়ে আছে। তাদের সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের এ নিয়ে পৃথক সভাও হয়েছে।এর আগে কৌশলগত পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড অ্যাঙ্গোলা, ক্যামেরুন, গাম্বিয়া, জর্ডান, লেবানন, সিয়েরা লিওন ও জিম্বাবুয়ে থেকে স্থানীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তানজানিয়া ও আইভরি কোস্টে কনজ্যুমার, প্রাইভেট ও বিজনেস ব্যাংকিং থেকে সরে গেলেও করপোরেট ও ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং চালু রাখে। পরে শ্রীলঙ্কায় সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রি করে দেয়।সূত্র জানায়, বাংলাদেশে রিটেইল ব্যাংকিং খাতে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের আমানত রয়েছে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে ঋণ রয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকটির প্রচলিত ধারার ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি সাদিক ইসলামিক ব্যাংকিং সেবাও রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড সেবা। ব্যাংকটির রিটেইল ব্যাংকিং সেবার মধ্যে রয়েছে স্মার্ট ও চলতি হিসাব, স্থায়ী ও বৈদেশিক মুদ্রা আমানত, প্রিমিয়াম ও রিওয়ার্ড–ভিত্তিক ক্রেডিট কার্ড, জামানতবিহীন ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে পার্সোনাল লোন, গাড়ি কিনতে অটো লোন এবং ফ্ল্যাট কেনা বা বাড়ি সংস্কারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হোম লোনের সুবিধা। ইসলামিক শরিয়াহ নীতি মেনে পরিচালিত ‘স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড সাদিক’ সেবার আওতায় সুদবিহীন ডিপিএস, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ও ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা। অনাবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আছে বিশেষায়িত ‘স্বদেশী ব্যাংকিং’ সেবা, যার মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে সঞ্চয় ও সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন।সিটি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে সবচেয়ে কম সুদ বা খরচের আমানত রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল ব্যাংকিংয়ের। অধিগ্রহণ করতে পারলে ব্যাংকের ব্র্যান্ডের মূল্য অনেক বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি আর্থিক সূচকে বড় উন্নতি হবে।জানা গেছে, সিটি ব্যাংকের ব্যক্তি হিসাবে আমানত রয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে ব্যক্তিগত, গাড়ি, বাড়িসহ ভোক্তা ঋণ রয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল ব্যবসা কিনতে পারলে ব্যাংকটির ঋণ স্থিতি একবারে দ্বিগুণ হয়ে যাবে।এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত সিটি ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রি করতে যাচ্ছে—এটা জানার পরই তারা কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে। এর আগে অ্যামেক্স কার্ড এনে সিটি ব্যাংক ইতিবাচক ফল পেয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া নানা পর্যায়ে অনুমোদনের পরই শুরু হবে। পুরো অধিগ্রহণ সম্পন্ন করা সময়সাপেক্ষও।ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যক্তি হিসাবে আমানত রয়েছে ৫৩ হাজার কোটি টাকা, যদিও মোট আমানত এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে ভোক্তা ঋণ প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা।ব্র্যাক ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ব্যাংকটির সঙ্গে একটি সভা হয়েছে। এখনো চূড়ান্ত কিছুই হয়নি। এটি অধিগ্রহণ করার আগে মূল্য নির্ধারণ ও নানা প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। যা একটি জটিল প্রক্রিয়া।বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের প্রধান বিটপী দাশ চৌধুরী লিখিতভাবে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বাজার–সংক্রান্ত কোনো গুঞ্জন বা জল্পনা-কল্পনার বিষয়ে মন্তব্য করি না। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড গ্রুপ ধারাবাহিকভাবে বৈশ্বিক ব্যবসায়িক মডেলের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে এবং প্রয়োজনে যেখানে আমাদের গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে অনন্য সুবিধা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেখানে সম্পদ কেন্দ্রীয়করণ নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড একটি বৈশ্বিক ব্যাংক, যা ১২০ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে গভীরভাবে শিকড় গেড়ে আছে। এই বাজারে ব্যাংকটির একটি সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। আমরা বাংলাদেশের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছি।’

বর্তমান সময়ে আমাদের জাতীয় অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে নানামুখী পরিবর্তন ও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পক্ষ থেকেই বিভিন্ন যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।

বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। এই খাতের যথাযথ প্রসার ঘটলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও বেশি শক্তিশালী করবে।

সামগ্রিক এই উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে দীর্ঘমেয়ায়ী ও টেকসই করতে হলে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। আশা করা যাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ মানুষ এর প্রকৃত সুফল ভোগ করবে।