রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন | আর্টিকেল টপ

আমাদের নিউজ পোর্টালে আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন →

আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিককে গালাগাল–হুমকি, পরীমনিকে ক্ষমা চাইতে আইনি নোটিশ

টেস্ট বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
১৯১ Shares
পরিমনিরসহ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর এই নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার।

আদালত প্রাঙ্গণে ৫ নভেম্বর সংঘটিত ঘটনার জন্য লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে চিত্রনায়িকা পরীমনির বরাবরে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। পরীমনিকে সাত দিনের মধ্যে ক্ষমা চাইতে অনুরোধ জানানো হয়েছে আইনি নোটিশে। 

পরিমনিসহ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর এই নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রেজিস্ট্রি ডাকযোগে আজ রোববার সকালে পরিমনিসহ তিনজনের বরাবর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। 

.পরীমনির দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আইনজীবীর.নোটিশে ভবিষ্যতে সব প্রকার অশ্লীল কথা বা সংলাপ, হুমকি প্রদান, অশ্লীল অভিনয়, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, অশ্লীল নৃত্যসহ যার কোনো শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই, তা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে পরীমনিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের উদ্দেশে আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, তাঁরা এই নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে শোকজ নোটিশ দিয়ে পরীমনির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন। তা না হলে প্রচলিত আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন নোটিশদাতা। 

.স্পর্শের অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিক রবিউল বললেন, পরীমনি তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়েছিলেন.আইনি নোটিশে অভিযোগ করা হয়, ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা এক মামলায় পরীমনি আত্মসমর্পণ করে আদালত থেকে জামিন পান। সেদিন বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ি থেকে নেমে এজলাসের দিকে যাওয়ার সময় পরীমনির ছবি–ভিডিও ধারণ করতে চাইলে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের ধাক্কাধাক্কি হয়। সে সময় পরীমনি সমকালের একজন মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টারের মুঠোফোন কেড়ে নেন। তাঁর ভিডিও ধারণের কাজে ব্যবহৃত ট্রাইপডটি পরীমনির সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা ভেঙে ফেলেন। আদালত প্রাঙ্গণে সেদিনের ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় গণমাধ্যমের কয়েকজন প্রতিবেদক আহত হন। সেদিন সুজন চন্দ্র মণি দাস নামের একজন বিচারপ্রার্থীও আহত হন। এই ব্যক্তির মাথা ফেটে রক্ত বের হয় বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণে প্রত্যেকের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্র ও প্রশাসনের কাজ। তাই ব্যক্তিগত একাধিক নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে আদালতের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ বা পেশিশক্তি প্রদর্শনের কোনো সুযোগ আইনে কারও নেই।

.‘কত বড় সাহস, গায়ে হাত দেয়’—আদালত চত্বরে ক্ষুব্ধ পরীমনি.আইনি নোটিশের ভাষ্য, পরবর্তীতে পরীমনি আদালত থেকে বের হন। আদালত প্রাঙ্গণে সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের (যাঁর ডান হাত জন্মগতভাবে বাঁ হাতের তুলনায় ছোট, তিনটি আঙুল নেই, এই হাত দিয়ে তিনি স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারেন না) দিকে তেড়ে যান। অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন। তাঁকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন। এর ভিডিও চিত্র গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। একজন পেশাগত সাংবাদিকের সঙ্গে পরীমনির এমন আচরণ শুধু তাঁর পেশাগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়; বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব পালনের পরিবেশের জন্যও হুমকিস্বরূপ। পরীমনির মতো একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর কাছ থেকে এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়।

.৫০০ টাকা মুচলেকায় জামিন পেলেন পরীমনি

সূত্র: প্রথম আলো