শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন | আর্টিকেল টপ

আমাদের নিউজ পোর্টালে আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন →

টাকা ছিনতাই করতে ব্যবসায়ী আজিজকে হত্যা :গ্রেপ্তার ৩

ডেক্স রিপোর্ট,নাগরিক খবর
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
৭৬৪ Shares

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ (৫৫) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ব্যবসার টাকা ছিনিয়ে নিতেই আজিজকে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।


রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ।


গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, সাঁথিয়া উপজেলার ডাঙ্গা মাজ গ্রামের দুলাল প্রামাণিকের ছেলে মনসুর আলীর (৩৪), আবু সামাদ প্রামাণিকের ছেলে সেলিম প্রামাণিক (৪০) ও হুমিস আলী মোল্লার ছেলে আকাশ মোল্লা (২৯)। তারা নিহত আব্দুল আজিজের প্রতিবেশী।


পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর সাঁথিয়া উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের মিয়াপুর মিনারপাড়া এলাকার একটি পুকুর থেকে পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অবিবাহিত হওয়ায় ব্যবসার টাকা সাধারণত নিজের কাছেই রাখতেন। বিষয়টি তার প্রতিবেশীদের কয়েকজন জানতেন।


পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, আজিজের কাছে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই ৭ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ পুকুরে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে সাঁথিয়া থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলা নম্বর ১১, তারিখ ০৯/০৯/২০২৬। ময়নাতদন্তের সময় মৃতের গলায় কাটা দাগ এবং পিঠ ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।


মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রথমে  সেলিম হোসেন ও মনসুর আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


পুলিশ আরো জানায়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সেলিম ও মনসুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে সাঁথিয়ার ডাঙ্গা মাজগ্রামের নিজ বাড়ি থেকে আকাশ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


পুলিশের দাবি, হত্যার পর আজিজের কাছ থেকে নেওয়া টাকা আসামিরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। গ্রেপ্তার সেলিমের কাছ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সেলিম ও মনসুর প্রত্যেকে ৬ হাজার টাকা এবং আকাশ ৪ হাজার টাকা করে পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।


এ ঘটনায় রেজাউল করিম বাঘা নামের আরও একজন আসামি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আলামত উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।