শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬
বিজ্ঞাপন | আর্টিকেল টপ

আমাদের নিউজ পোর্টালে আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন →

কুবি কর্মকর্তার ওপর হামলা, নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

কুবি প্রতিনিধি//নাগরিক খবর
প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
৮৯০ Shares


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এস্টেট শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমানের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা শাহজালাল আলালের বিরুদ্ধে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই কর্মকর্তা।


অভিযুক্ত শাহজালাল আলাল কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের নেতা হিসেবে পরিচিত।


লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৮টার দিকে কোটবাড়ি এলাকার চাঙ্গিনী দক্ষিণ মোড়ে হাফেজ মনির হোসেনের হার্ডওয়্যারের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। খলিলুর রহমান ওই দোকানে বসে থাকা অবস্থায় শাহজালাল আলাল সেখানে প্রবেশ করে দোকানের কোদালের হাতল দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করেন। এতে তিনি হাঁটুতে গুরুতর আঘাত পান। হামলার সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।


হামলার শিকার খলিলুর রহমান বলেন, “বাড়ির পাশে চা খাওয়ার সময় একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে আমাকে গালিগালাজ করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ এসে লাঠি দিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করা হয়। কী কারণে আমার ওপর এ হামলা হলো, তা আমার বোধগম্য নয়।”


প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সম্প্রতি একটি সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যের জের ধরে এ ঘটনার সূত্রপাত। সাংবাদিকদের সামনে সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারকে 'সন্ত্রাসীদের গডফাদার' হিসেবে উল্লেখ করার কারণেই খলিলুর রহমানের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এ হামলা চালান আলাল।


তবে হামলার কথা অস্বীকার করে অভিযুক্ত শাহজালাল আলাল দাবি করেন, “অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে 'কোটবাড়ি বাইকার গ্রুপকে' (কেবিজি) একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে 'কিশোর গ্যাং' হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর প্রতিবাদে তারা যে সংবাদ সম্মেলন করে, তার স্ক্রিপ্ট লিখে দিয়েছিলেন খলিল। সেখানে সাবেক এমপি বাহারকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করায় বিষয়টি নিয়ে খলিলের সঙ্গে আমার কথা-কাটাকাটি ও সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।”


অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত শাহজালাল আলাল এলাকায় ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। এছাড়া ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের করা মামলারও (মামলা নং ৬৮২৪/২০২৪) এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। এর বাইরেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।


এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলাম জানান, “অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হবে।”


অন্যদিকে থানার সার্বিক বিষয়ে জানতে সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, “ঘটনাটি খলিলুর রহমান আমাদের মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। তিনি এলাকায় ছাত্রলীগ ও কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্টদের হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা; তার সার্বিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”